ঈদে মিলাদুন্নবী কী- প্রচলনের ইতিহাস,গুরুত্ব ও তাৎপর্য
ঈদে মিলাদুন্নবী কী? এর ইতিহাস, গুরুত্ব, তাৎপর্য, পালন পদ্ধতি ও ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি সহজ ভাষায় জানুন। নির্ভরযোগ্য তথ্য একসঙ্গে পড়ুন।
ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন, প্রচলনের ইতিহাস এবং ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিভিন্ন মতামত রয়েছে । তাই বিষয়টি সম্পর্কে সঠিক ও ভারসাম্যপূর্ণ ধারণা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
সূচিপত্রঃ ঈদে মিলাদুন্নবী কী
- ঈদে মিলাদুন্নবী কী
- ঈদে মিলাদুন্নবীর ইতিহাস
- ঈদে মিলাদুন্নবী প্রজননের সূচনা
- ঈদে মিলাদুন্নবী কবে পালিত হয়
- ঈদে মিলাদুন্নবীর গুরুত্ব ও তাৎপর্য
- ঈদে মিলাদুন্নবী নিয়ে ইসলামী মতামত
- বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন
- ঈদে মিলাদুন্নবী সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা
- ঈদে মিলাদুন্নবী থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
- শেষ কথাঃ ঈদে মিলাদুন্নবী কী
ঈদে মিলাদুন্নবী কী
ঈদে মিলাদুন্নবী কী-এটি মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর
জন্মসরণে পরিচিত একটি বিশেষ ধর্মীয় উপলক্ষ। ঈদে মিলাদুন্নবী শব্দটি আরবি
ভাষা থেকে এসেছে। এখানে " ঈদ" অর্থ আনন্দ বা উৎসব, আর "
মিলাদ" অর্থ জন্ম এবং "নবী" বলতে মহানবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম কে বোঝানো
হয়েছে। তাহলে "ঈদে মিলাদুন্নবী" শব্দের অর্থ হচ্ছে "নবীর জন্মোৎসব"।
অর্থাৎ ঈদে মিলাদুন্নবী বলতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
জন্মস্মরণ, ও তাঁর জীবন, চরিত্র এবং আদর্শ নিয়ে আলোচনা করাকে বোঝানো
হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা রবিউল আউয়াল মাসে এ উপলক্ষে কোরআন
তেলাওয়াত, দরুদ শরীফ পাঠ, সিরাত আলোচনা, দোয়া ও ধর্মীয়
অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
এই দিনটি মুসলমানদের কাছে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর প্রতি ভালোবাসা, ।
শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি উপলক্ষ হিসেবে বিবেচিত হয় তবে ঈদে
মিলাদুন্নবী পালন নিয়ে ইসলামী আলেমদের মধ্যে বিভিন্ন মতামত রয়েছে। তাই এ
বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ইসলামিক জ্ঞান ও প্রামাণ্য সূত্র অনুসরণ করা
গুরুত্বপূর্ণ।
ঈদে মিলাদুন্নবীর ইতিহাস
ঈদে মিলাদুন্নবী-এর ইতিহাস মূলত মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (স)-জন্ম ও তার স্মৃতিকে
কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী, মহানবী
(স.) হিজড়ে বর্ষের রবিউল আউয়াল মাসে মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ
করেন। তার আগমন মানব জাতির জন্য শান্তি, ন্যায়, দয়া ও কল্যাণের
বার্তা নিয়ে আসে বলে মুসলমানরা বিশ্বাস করেন।
মহানবী (স.)-এর জীবদ্দশায় বা সাহাবায়ে কেরামের যুগে আলাদা কোন বার্ষিক জন্মোৎসব
পালনের প্রচলন ছিল না। তবে মুসলমানরা সবসময় তার জীবন, চরিত্র ও
শিক্ষাকে স্মরণ করে আসছেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মুসলিম সমাজে নবীজি (স.)-এ
জন্ম স্মরণ উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা, মিলাদ মাহফিল ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের প্রচলন
শুরু হয়।
ঐতিহাসিকভাবে জানা যায়, পরবর্তী শতাব্দীতে কিছু মুসলিম শাসনামলে ঈদে
মিলাদুন্নবী আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করা শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন
অঞ্চলে এর প্রচলন বিস্তার লাভ করে। বর্তমানে অনেক মুসলিম দেশে এ উপলক্ষে
সিরাত আলোচনা, কুরআন তেলাওয়াত, দোয়া ও অন্যান্য ধর্মীয় আয়োজন করা
হয়। তবে এটি পালনের পদ্ধতি ও ধর্মীয় অবস্থান নিয়ে ইসলামী আলেমদের মধ্যে
বিভিন্ন মতামত রয়েছে।
ঈদে মিলাদুন্নবী প্রচলনের সূচনা
ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের আনুষ্ঠানিক প্রচলন ইসলামের প্রথম যুগে ছিল
না। পরবর্তী সময়ে মুসলিম সমাজে মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (স.)-এর জন্মস্মরণ ও
তার জীবনাদর্শ আলোচনা করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের আয়োজন শুরু
হয়। ইতিহাসবিদদের মতে, হিজরী চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ শতাব্দীর মধ্যে বিভিন্ন
অঞ্চলে মিলাদ মাহফিলের প্রচলন ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে।
পরবর্তীতে কিছু মুসলিম শাসনামলে ঈদে মিলাদুন্নবী বৃহৎ আকারে পালনের রীতি চালু
হয়। এসব আয়োজনে কোরআন তেলাওয়াত, নবীজির জীবনী
(সিরাত) আলোচনা, দোয়া ও ধর্মীয় বক্তব্যের মাধ্যমে তার শিক্ষা ও আদর্শ
তুলে ধরা হতো। ধীরে ধীরে এ প্রথা বিভিন্ন মুসলিম অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশে মুসলমানরা ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয়
অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। তবে এর পালন-পদ্ধতি ও ধর্মীয় গুরুত্ব নিয়ে ইসলামী
আলেমদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মতামত রয়েছে। তাই এ বিষয়ে ঐতিহাসিক তথ্যের
পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য ইসলামিক জ্ঞান থেকেই ধারনা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
ঈদে মিলাদুন্নবী কবে পালিত হয়
ঈদে মিলাদুন্নবী সাধারণত হিজরী বর্ষের রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে পালিত
হয়। ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী, এই দিনটি মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (স.)-এর
জন্ম স্মরণে পালন করা হয়। তবে তার জন্ম তারিখ নির্ধারণ নিয়ে ঐতিহাসিক ও
আলেমদের মধ্যে কিছু ভিন্ন মতামত রয়েছে।
গ্রেগরিয়ান (ইংরেজি) ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এর তারিখ প্রতিবছর পরিবর্তিত
হয়, কারণ হিজরী ক্যালেন্ডার চাঁদের গতির ওপর নির্ভরশীল। তাই প্রতিবছর
চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রবিউল আউয়াল মাসের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
এই উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলমানরা মিলাদ মাহফিল, সিরাত
আলোচনা, কুরআন তেলাওয়াত, দরুদ শরীফ পাঠ, দোয়া ও অন্যান্য
ধর্মীয় আয়োজন করে থাকেন। এ দিন মহানবী (স.)-এর জীবন, শিক্ষা ও
মানবতার প্রতি তার অবদান স্মরণ করা হয়।
ঈদে মিলাদুন্নবীর গুরুত্ব ও তাৎপর্য
ঈদে মিলাদুন্নবী মুসলমানদের কাছে মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (স.)-এর জীবন, আদর্শ
ও শিক্ষাকে স্মরণ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। এ দিনে নবীজি (স.)-এর
প্রতি ভালবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। তার উত্তম
চরিত্র, মানব প্রেম, দয়া, সততা ও ন্যায়ের শিক্ষা মানুষের মাঝে
তুলে ধরাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
এই দিনের তাৎপর্য হলো মহানবী (স.)-এর জীবনাদর্শ সম্পর্কে জানার এবং তা নিজেদের
জীবনে অনুসরণ করার অনুপ্রেরণা লাভ করেন। এ উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে কুরআন
তিলাওয়াত, দরুদ শরীফ পাঠ, সিরাত আলোচনা, দোয়া ও ধর্মীয়
অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজন মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, শান্তি
ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
এই দিনের তাৎপর্য হলো মহানবী (স.) মানবজাতির জন্য যে শান্তি, কল্যাণ ও
উত্তম জীবন ব্যবস্থার শিক্ষা দিয়েছেন, তা স্মরণ করা। তার দেখানো
ক্ষমা, সহনশীলতা ও মানবিকতার পথ অনুসরণ করে সুন্দর সমাজ গড়ার শিক্ষা পাওয়া
যায়। তবে এদিন পালন ও এর পদ্ধতি নিয়ে ইসলামী আলেমদের মধ্যে বিভিন্ন মতামত
রয়েছে, তাই জ্ঞান ও পারস্পরিক সম্মানের সঙ্গে বিষয়টি বোঝা
গুরুত্বপূর্ণ।
ঈদে মিলাদুন্নবী নিয়ে ইসলামী মতামত
ঈদে মিলাদুন্নবী পালন নিয়ে ইসলামী আলেমদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ভিন্ন ভিন্ন মতামত
বিদ্যমান। একদল আলেম মনে করেন, মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (স.)-এর
জন্ম স্মরণে কুরআন তেলাওয়াত, দরুদ শরীফ পাঠ, সিরাত আলোচনা, দোয়া
ও দান-সদকার মত শরীয়ত সম্মত আমল করা বৈধ। তাদের মতে, এসব আয়োজন
নবীজির প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশের একটি উপায়।
অন্যদিকে আরেক দল আলেম এর মত হল, মহানবী (স.) সাহাবায়ে কেরাম ও
প্রাথমিক ইসলামি যুগে ঈদে মিলাদুন্নবী নামে কোন নির্দিষ্ট বার্ষিক অনুষ্ঠান
প্রচলিত ছিল না। তাই তারা ধর্মীয় উৎসব হিসেবে এটি পালন করার পরিবর্তে কুরআন
ও সহিহ সুন্নাহ অনুসরণকেই অধিক গুরুত্ব দেন। তাদের মতে, ইবাদতের
ক্ষেত্রে প্রামাণ্য দলিলের ভিত্তিতে আমল করা উচিত।
ইসলামী মতপার্থকের এ বিষয়টি নিয়ে পারস্পরিক সম্মান, শালীনতা ও সহনশীলতা
বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। যে মতই অনুসরণ করা হোক না কেন, সকল মুসলমানের
জন্য মহানবী (স.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ, তার সুন্নাহ মেনে চলা এবং ইসলামের
মৌলিক শিক্ষা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করাই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঈদে মিলাদুন্নবী স্থানীয় সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্য
অনুযায়ী পালন করা হয়। অনেক দেশে এ উপলক্ষে মসজিদ, ইসলামিক কেন্দ্র ও
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোরআন তেলাওয়াত, দরুদ শরীফ পাঠ, সিরাত আলোচনা এবং দোয়া
মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (স.)-এর জীবন ও আদর্শ তুলে
ধরাই এসব অনুষ্ঠানের প্রধান উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মিশর, বিভিন্ন
দেশে এ উপলক্ষে ধর্মীয় সমাবেশ, ইসলামী আলোচনা, দান-সদকা ও মানবকল্যাণমূলক
কর্মসূচির আয়োজন দেখা যায়। কিছু দেশে দিনটি সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত
হয়, আবার কোথাও এটি শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ
থাকে। উদযাপনের ধরন দেশ ও অঞ্চলের রীতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
তবে সব মুসলিম দেশে ঈদে মিলাদুন্নবী একইভাবে পালন করা হয় না। কিছু দেশে তুই
ব্যাপকভাবে উদযাপিত হলেও, অন্য কিছু দেশে এর আনুষ্ঠানিক উদযাপন সীমিত বা
প্রচলিত নয়। কারণ, ঈদে মিলাদুন্নবী পালন নিয়ে ইসলামী আলেমদের মধ্যে
বিভিন্ন মতামত রয়েছে। তাই বিভিন্ন দেশের পালন-পদ্ধতিতে পার্থক্য দেখা
গেলেও, মহানবী (স.)-এর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ এবং তার আদর্শ
অনুসরণের গুরুত্ব সব মুসলমানের কাছেই সমানভাবে মূল্যবান।
ঈদে মিলাদুন্নবী সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা
ঈদে মিলাদুন্নবী সম্পর্কে সমাজে বিভিন্ন ধরনের ভুল ধারণা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য
প্রচলিত রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, এ বিষয়ে সব মুসলমানের মতামত
এক, অথচ বাস্তবে ইসলামী আলেমদের মধ্যে এ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মতামত
বিদ্যমান। তাই কোন একটি মতকে একমাত্র সঠিক বলে ধরে নেওয়ার আগে নির্ভরযোগ্য
ইসলামী সূত্র থেকে বিষয়টি জানা উচিত।
আরেকটি প্রচলিত ভুল ধারণা হলো, ঈদে মিলাদুন্নবী পালন মানেই নির্দিষ্ট কিছু
রীতি বা আয়োজন সবার জন্য বাধ্যতামূলক। বাস্তবে বিভিন্ন দেশ, অঞ্চল ও
ইসলামী ধারার অনুসারীদের মধ্যে পালন-পদ্ধতিতে পার্থক্য দেখা যায়। ফলে
স্থানভেদে আয়োজনের ধরন ভিন্ন হলেও সেটি একমাত্র গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি-এমন ধারণা
সঠিক নয়।
এ বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও মুসলমানদের পারস্পরিক সম্মান, সৌহার্দ্য ও
শালীনতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মতভেদকে কেন্দ্র করে বিভেদ সৃষ্টি
না করে কুরআন ও সহিহ সুন্নাহভিত্তিক জ্ঞান অর্জন এবং যোগ্য আলেমদের কাছ থেকে সঠিক
দিক নির্দেশনা গ্রহণ করা উচিত। এর মাধ্যমে ভুল ধারণা দূর হবে এবং বিষয়টি
সম্পর্কে ভারসাম্যপূর্ণ উপলব্ধি গড়ে উঠবে।
ঈদে মিলাদুন্নবী থেকে আমাদের শিক্ষা
ঈদে মিলাদুন্নবী আমাদের মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (স.)-এর জীবন, চরিত্র ও
আদর্শ থেকে শিক্ষা গ্রহণের গুরুত্ব ও স্মরণ করিয়ে দেয়। তার
সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা, দয়া, ন্যায়পরায়ণতা ও বিনয় প্রতিটি
মুসলমানের জীবনের আদর্শ হওয়া উচিত। ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে
এসব গুণাবলী অনুসরণ করলে সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
এই উপলক্ষ আমাদের কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনার অনুপ্রেরণা
দেয়। মহানবী (স.) মানুষের প্রতি
ভালোবাসা, ক্ষমাশীলতা, ধৈর্য, সহনশীলতা এবং মানবসেবার যে শিক্ষা
দিয়েছেন, তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করায় প্রকৃত সফলতা। তার আদর্শ
অনুসরণ করলে ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের কল্যাণ নিশ্চিত করা হয়।
ঈদে মিলাদুন্নবী থেকে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হল, মহানবী (স.)-কে শুধু
ভালবাসলেই যথেষ্ট নয়, বরং তার শিক্ষা ও সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন গড়ে
তোলায় প্রকৃত কর্তব্য। মতভেদ বা বিতর্কে জড়িয়ে পড়ার পরিবর্তে তার উত্তম
চরিত্র অনুসরণ, ইসলামের মৌলিক শিক্ষা মেনে চলা এবং মানুষের কল্যাণে কাজ
করাই একজন মুসলমানের জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।
প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ঈদে মিলাদুন্নবী কী ?
ঈদে মিলাদুন্নবী হলো মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (স.)-এর জন্ম স্মরণে পরিচিত একটি
ধর্মীয় উপলক্ষ। এ সময় বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে তার জীবন, চরিত্র ও
আদর্শ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
ঈদে মিলাদুন্নবী কবে পালিত হয়?
বেশিরভাগ মুসলিম দেশে হিজরী বর্ষের রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে ঈদে মিলাদুন্নবী
পালন করা হয়। তবে মহানবী (স.)-এর জন্ম তারিখ নিয়ে ঐতিহাসিকভাবে বিভিন্ন
মতামত রয়েছে।
ঈদে মিলাদুন্নবী কেন পালন করা হয়?
অনেক মুসলমান মহানবী (স.)-এর প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা
প্রকাশ এবং তাঁর জীবন ও শিক্ষা স্মরণ করার উদ্দেশ্যে এ উপলক্ষ পালন করেন।
ঈদে মিলাদুন্নবী পালন নিয়ে ইসলামে কি মতভেদ রয়েছে?
হ্যাঁ। ইসলামী আলেমদের মধ্যে এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মতামত রয়েছে। একদল
আলেম এটিকে বৈধভাবে স্মরণ করার একটি মাধ্যম মনে করেন, অন্যদিকে আরেক দল
এদিকে ধর্মীয় উৎসব হিসেবে পালন করার পক্ষে নন।
ঈদে মিলাদুন্নবীতে কি কি আয়োজন করা হয়?
দেশ ও অঞ্চলের কোরআন তেলাওয়াত, দরুদ শরীফ পাঠ, সিরাত
আলোচনা, দোয়া মাহফিল, দান-সদকা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন
করা হয়।
ঈদে মিলাদুন্নবী কি সরকারি ছুটির দিন?
বাংলাদেশ সহ কিছু মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সরকারি
ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে সব দেশে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।
ঈদে মিলাদুন্নবী থেকে আমাদের কি শিক্ষা নেওয়া উচিত?
মহানবী (স.)-এর সত্যবাদিতা, দয়া, ন্যায় পরায়ণতা, মানবিকতা ও
সহনশীলতা শিক্ষা বাস্তব জীবনে অনুসরণ করায় এ উপলক্ষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ
শিক্ষা।
শেষ কথাঃ ঈদে মিলাদুন্নবী কী
ঈদে মিলাদুন্নবী হলো মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (স.)-এর জন্ম স্মরণে পরিচিত একটি
ধর্মীয় উপলক্ষ। এ দিনকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলমানরা নবীজির
জীবন, চরিত্র, শিক্ষা ও মানবতার প্রতি তার অবদান স্মরণ করেন। তবে
ঈদে মিলাদুন্নবী পালন সম্পর্কে ইসলামী আলেমদের মধ্যে বিভিন্ন মতামত
রয়েছে, তাই বিষয়টি নির্ভরযোগ্য ইসলামিক জ্ঞান ও প্রামাণ্য সূত্রের আলোকে
জানা উচিত।
এই নিবন্ধে আমরা ঈদে মিলাদুন্নবী কী , এর অর্থ ও পরিচয়,
ইতিহাস, প্রচলনের সূচনা, গুরুত্ব ও তাৎপর্য, ইসলামী
মতামত, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উদযাপন, প্রচলিত ভুল ধারণা এবং এ থেকে
আমাদের শিক্ষার বিষয়গুলো তুলে ধরেছি। আশা করি, আলোচনাটি আপনাকে
বিষয়টি সম্পর্কে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও তথ্যভিত্তিক ধারণা দিতে সহায়তা করবে।
সবশেষে, মহানবী (স.)-এর প্রতি প্রকৃত ভালবাসার প্রকাশ হল তার
আদর্শ, সুন্নাহ ও নৈতিক শিক্ষাকে নিচের জীবনে বাস্তবায়ন করা। আল্লাহ
তায়ালা আমাদের সবাইকে সত্য ও কল্যাণের পথে চলার তৌফিক দান করুন। আমীন।
আরও পড়ুনঃ
ঈদুল আযহা কী? ঈদুল আযহা কেন পালন করা হয়?


jkumeducationit.com# নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url