দাঁতের ব্যথা এমন একটি কষ্ট যা মানুষকে মুহূর্তেই অস্থির করে তোলে। অনেক সময় এই
ব্যথা এত তীব্র হয় যে খাওয়া, কথা বলা কিম্বা ঘুমানো কঠিন হয়ে যায়। বিশেষ করে
শীতকালে দাঁতের সংবেদনশীলতা বেড়ে গেলে ব্যথা আরো বাড়তে পারে । তাই মানুষ সব
সময় দ্রুত উপশমের পথ খোঁজেে।
ইসলাম শুধু ইবাদতের শিক্ষা দেয় নি বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও শারীরিক সুস্থতার
প্রতিও গুরুত্ব দিয়েছে। কোরআনের আয়াত, হাদিসের দোয়া এবং সুন্নতি আমলের মাধ্যমে
মানসিক প্রশান্তি ও শারীরিক স্বস্তি পাওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসা
গ্রহণের প্রতিও ইসলাম উৎসাহ দিয়েছে । দ্রুত আরাম পেতে পড়ুন "দাঁত ব্যথা দূর করার
কিছু গুরুত্বপূর্ণ দোয়া ও আমল"- সম্পূর্ণ ইসলামিক গাইড লাইন।
শেষ কথাঃ দাঁত ব্যথা দূর করার কিছু গুরুত্বপূর্ণ দোয়া ও আমল
দাঁতের ব্যথা কেন হয়?
দাঁতের ব্যথা সাধারণত দাঁতের ক্ষয়, ক্যাভিটি, মাড়ির সংক্রমণ কিম্বা ঠান্ডা
লাগার কারণে হয়ে থাকে। অনেক সময় দীর্ঘদিন তাদের যত্ন না নেওয়ার ফলেও
তীব্র ব্যথা শুরু হয়। দাঁতের স্নায়ু খুব সংবেদনশীল হওয়ায় সামান্য সমস্যায়ও
মারাত্মক যন্ত্রণার রূপ নিতে পারে।
বর্তমান সময়ে অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার, কোমল পানীয় এবং অপরিষ্কার দাঁত দাঁতের
সমস্যার বড় কারণ।। অনেকেই ছোট সমস্যাকে অবহেলা করেন পরে সেই ছোট সমস্যা
রুট ক্যানেল পর্যন্ত গড়ায় তাই শুরু থেকেই সচেতন থাকা জরুরি।
ইসলাম দাঁতের যত্ন সম্পর্কে কি বলে?
ইসলাম পরিচ্ছন্নতাকে ঈমানের অংশ হিসেবে ঘোষণা করেছে দাঁতের যত্ন সেই পরিচ্ছন্নতার
অন্তর্ভুক্ত নিয়মিত মেসওয়াক করতেন এবং তার উম্মতকে মেসওয়াক করার জন্য উৎসাহ
দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে যদি উম্মতের জন্য কষ্টকর না হতো তাহলে তিনি প্রতিটি
নামাজের আগে মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতেন। এটি প্রমাণ করে দাঁতের পরিছন্নতা
ইসলামে কত গুরুত্বপূর্ণ।বর্তমানে অনেকেরই দাঁতের রোগের মূল কারণ হলো অপরিষ্কার
দাঁত ও অনিয়মিত যত্ন। ইসলাম শত শত বছর আগেই দাঁতের যত্নের সুন্দর সমাধান দিয়ে
গেছে।
সত্যি বলতে কি-"ওল্ড স্কুল ইসলামিক হাইজিন" এখনো মেডিক্যাল সায়েন্স এর সঙ্গে
পারফেক্টলি এলাইনড। এর মানে হলো ইসলামের পুরনো স্বাস্থ্যবিধি বা পরিচ্ছন্নতার
নিয়ম গুলো আজকের আধুনিক মেডিকেল সাইন্স এর সাথেও মিলে যায়।মানে ইসলাম অনেক আগে
যেসব অভ্যাস শিখিয়েছে এখন বিজ্ঞানও বলছে এগুলো সত্যিই শরীরের জন্য উপকারী।
যেমন-
মেসওয়াকের ব্যবহারঃ ইসলাম বহু আগে থেকেই দাঁত পরিষ্কার রাখতে মেসওয়াকের
ব্যবহারের কথা বলেছে। এখন বিজ্ঞান বলছে মেসওয়াকে এন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান আছে
যা দাঁতের জীবাণু কমাতে সাহায্য করে।
ওযু করাঃ দিনে কমপক্ষে পাঁচ বার ওযু করলে দাঁত মুখ
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে আজকের ডাক্তাররাও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব
সম্পর্কে বলেন।
অর্থাৎ ইসলামের পুরনো স্বাস্থ্যচর্চা আর আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের অনেক কথায় একে
অপরের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। এক কথায়, দাঁতের যত্নে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কোন
বিকল্প নেই যা অনেক আগেই ইসলাম শিখিয়ে গেছে।
সূরা মূলকের আয়াতের আমল
পবিত্র কুরআনুল কারিমে এমন কিছু আয়াত রয়েছে যেগুলো বিভিন্ন রূপ ও কষ্টের সময়
পড়া হয়। দাঁতের ব্যথার জন্যও এমন কিছু আয়াত রয়েছে যা আমল করলে দাঁত ব্যথা
উপশম হয় বলে অনেক আলেম উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে একটি আয়াত হলো সূরা মূলক
এর ২৩ নাম্বার আয়াত।
বাংলা অর্থঃ বলুন, তিনিই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের
দিয়েছেন কান, চোখ ও অন্তর; অথচ তোমরা খুব কমই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।
সূরা আনআম এর আয়াতের আমল
দাঁতের ব্যথা কমানোর জন্য অনেক মানুষ সূরা আন-আম এর ৬৭ নম্বর আয়াত
আমল হিসেবে পড়ে থাকেন। এই আয়াতটি আল্লাহর ক্ষমতা ও নির্ধারিত ফয়সালার
কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কষ্টের সময় কোরআনের আয়াত তেলাওয়াত করলে
মানুষের অন্তরে প্রশান্তি আসে এবং আল্লাহর প্রতি ভরসা বৃদ্ধি পায়।
বাংলা অর্থঃ প্রত্যেক সংবাদ বিষয়ের একটি নির্ধারিত সময়
রয়েছে, আর অচিরেই তোমরা তা জানতে পারবে।
অনেকে দাঁতের ব্যথার সময় ব্যথার স্থানে হাত রেখে এই আয়াত কয়েকবার
পড়ে ফু দেন এবং আল্লাহর কাছে শিফা প্রার্থনা করেন। তবে মনে রাখতে
হবে, কুরআনের আমলের পাশাপাশি চিকিৎসাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই ব্যথা
বেশি হলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূরা ফাতেহা ও সূরা ইনশিরাহ এর আমল
দাঁতের ব্যথা বা শরীরের যেকোনো কষ্টের সময় অনেক আলেম সূরা ফাতিহা
এবং সূরা ইনশিরাহ বা আলামনাশরহ পড়ার আমল উল্লেখ করেছেন। এই
সূরাগুলো মানুষের অন্তরে প্রশান্তি এনে দেয়। এবং আল্লাহর রহমত ও শিফা
কামনার একটি সুন্দর মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়।
এই আমল করার জন্য প্রথমে অজু অবস্থায় থাকা উত্তম। এরপর ব্যাথার স্থানে
হাত রেখে ৭ বার সূরা ফাতিহা এবং সাতবার সূরা আলাম নাসরহ পড়তে
হয়। প্রতিবার পড়ার পরে হালকা ফু দেওয়া যেতে
পারে। অনেক মানুষ এই আমলের মাধ্যমে মানসিক শান্তি ও স্বস্তি অনুভব
করেন।
সূরা ফাতিহাকে " সিফার সূরা" বলা হয় এবং সূরা আলাম নাসরহ মানুষের
দুঃখ কষ্ট রাগ হবে বার্তা দেয়। তাই ব্যথার সময় এই সূরাগুলো তিলাওয়াত
করলে মন শান্ত হয় এবং আল্লাহর প্রতি ভরসা বৃদ্ধি পায় তবে ব্যথা দীর্ঘদিন
থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
দাঁতের ব্যথায় হাদীসের দোয়া
দাঁতের ব্যথা সহ শরীরের যেকোনো ব্যথার সময় একটি সুন্দর দোয়া করার কথা সহি হাদিসে এসেছে। হযরত ওসমান ইবনুল আস (রা.) ব্যাথার অভিযোগ করলে প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) তাকে ব্যথার স্থানে হাত রেখে এই দোয়া পড়তে বলেন। এই দোয়া আল্লাহর কাছে শিফা ও নিরাপত্তা চাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল।
উচ্চারণঃ "আউজুবিল্লাহি ওয়া কুদরাতিহী মিং শাররি মা আজিদু ওয়া উহাযির"
বাংলা অর্থঃ আমি আল্লাহ এবং তাঁর কুদরতের আশ্রয় চাই, আমি যে কষ্ট অনুভব করছি এবং যার আশঙ্কা করছি তার অনিষ্ট থেকে।
এই দোয়াটি পড়ার সময় ব্যথার স্থানে হাত রেখে সাতবার পড়া উত্তম। আন্তরিকতার সঙ্গে আল্লাহর কাছে শিক্ষা চাইলে মনে প্রশান্তি আসে।
ব্যাথার স্থানে হাত রেখে দোয়া পড়ার নিয়ম
শরীরে কোন স্থানে ব্যথা হলে, বিশেষ করে দাঁতের ব্যথার সময় হাদিসে বর্ণিত একটি আমল করা হয়। এই আমলের ব্যথার স্থানে হাত রেখে আল্লাহর কাছে শিখা চাওয়া হয়। এটি একজন মুসলমানের জন্য সুন্দর একটি সুন্নতি আমল।
প্রথমে ব্যথার স্থানে ডান হাত রাখুন। এরপর তিনবার " বিসমিল্লাহ" বলুন। তারপর নিচে দোয়াটি সাতবার পড়ুন। দোয়া পড়ার সময় মনোযোগ ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রাখা গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই শেষে হালকা ফু দিয়ে থাকেন।
এই আমল করার মাধ্যমে মানুষ মানসিক শান্তি অনুভব করে এবং আল্লাহর রহমতের আশা পায়। তবে ব্যথা যদি তীব্র হয় বা দীর্ঘদিন থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ইসলাম দোয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা কেউ গুরুত্ব দিয়েছে।
ব্যথা দূর করার ১০০% পরীক্ষিত দোয়া ও আমল:
হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, যখন কেউ ব্যথা, ফোড়া বা জখম নিয়ে মুহাম্মদ (সা.) এর কাছে আসতেন, তখন তিনি এই দোয়া পড়তেন। হাদিসটি সহিহ বুখারী, সহিহ মুসলিম এবং অন্যান্য হাদিস গ্রন্থে এসেছে।
বাংলা অর্থ: আল্লাহর নামে শুরু করছি। আমাদের জমিনের মাটি এবং আমাদের কারো লালার বরকতে, আমাদের প্রতিপালকের অনুমতিতে আমাদের অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ হয়ে যাক
দাঁতের ব্যথায় বুজুর্গ আলেমদের পথনির্দেশনা
দাঁতের ব্যথা কমানোর জন্য অনেক বুজুর্গ আলেম ওলামায়ে কেরাম কোরআনের
আয়াত, দোয়া এবং সুন্নতি আমলের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। , তারা মনে
করেন, শারীরিক কষ্টের সময় আল্লাহর দিকে মনোযোগ বাড়ানো এবং দোয়ার
মাধ্যমে শিফা চাওয়া একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল। বিশেষ করে কোরআনের
আয়াত তেলাওয়াত মানুষের অন্তরে প্রশান্তি এনে দেয়।
হযরত মাওলানা আনোয়ার শাহ কাশ্মিরী রহমাতুল্লাহ আলাইহি সহ অনেক নির্ভরযোগ্য
আলেমদের ব্যাথার সময় কিছু নির্দিষ্ট দোয়া ও সূরা পড়ার আমল উল্লেখ
করেছেন। তারা ব্যথার স্থানে হাত রেখে দোয়া পড়া,সূরা ফাতিহা
তেলাওয়াত করা এবং আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে শিফা প্রার্থনার কথা
বলেছেন। এই আমল গুলো মানুষের মনে ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি ভরসা বৃদ্ধি
করে।
মাওলানা আনোয়ার শাহ কাশ্মিরী রহমাতুল্লাহ আলাইহি তার কিতাবে উল্লেখ করেছেন
তিন রাকাত বেতর নামাজের প্রথম রাকাতে সুরা ফাতেহার সাথে সূরা নাসর,
দ্বিতীয় রাকাতে সুরা ফাতেহার সাথে সূরা লাহাব
এবং তৃতীয় রাকাতে সূরা
ফাতেহার সাথে সূরা এখলাছ
পাঠ করলে দাঁত নড়া বন্ধ হয়ে যাবে এবং দাঁতের যাবতীয় রোগ ভালো হয়ে যাবে
ইনশাআল্লহ। মৃত্যু আগ পর্যন্ত দাঁত ভালো থাকার এটি একটি শক্তিশালী কুরআনী
আমল।
jkumeducationit.com# নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url